রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে জুস খাইয়ে দুই বান্ধবীকে গনধর্ষণ

ঢাকা : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বৈদ্যুতিক সুইচ উৎপাদনের একটি কারখানায় একইসঙ্গে কাজ করতো দুই বান্ধবী। ২৭ এপ্রিল এক বান্ধবীর  মা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেই সুবাদে এক বান্ধবী অন্য এক বান্ধবীর বাসায় রাতে ঘুমাতে যায়। ওই রাতেই তারা দুজন গণধর্ষণের শিকার হন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আব্দুল্লাহ  এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এসআই আব্দুল্লাহ জানান, রিংকি (১৪) ও মৌমিতা  (১৪) (ছদ্ম নাম, আসল নাম প্রকাশ করা হলনা) একই কারখানায় কাজ করে। তাদের নামও একই। ২৭ এপ্রিল রিংকির র মা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওই দিন রাতে রিংকিদেরর বাসায় ঘুমাতে আসে মৌমিতা । সন্ধ্যার দিকে রিংকির  মামাতো ভাই বেল্লাল ফলের জুস নিয়ে তার বাসায় আসে। গল্প করতে করতে তাদের দুজনকেই জুস খাইয়ে দেয় বেলাল।

অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে এসআই আরো জানান, জুস খাওয়ার পর তারা দুজনই অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর বেলাল আরো তিন যুবককে ওই বাসার ভেতরে প্রবেশ করান। তারা পালাক্রমে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি সকালে জানাজানি হয়ে যায়। প্রথমে ধর্ষণের বিষয়টি লুকানোর চেষ্টা করে দুই তরুণীর পরিবার। তবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এরপর মৌমিতার  বাবা ঘটনার তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই দুই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তারা সেখানেই রয়েছেন।

মামলা দায়েরের বিলম্বের কারণ সম্পর্কে মৌমিতার বাবা আব্দুর রউফ  জানান, ঘটনার সময় তার স্ত্রী দেশের বাড়িতে থাকায় পুরো ঘটনাটি মেয়ে তাকে জানায়নি। এ ছাড়াও নির্বাচনের কারণে পুলিশ সময় দিতে পারেনি। তাই মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।

বেলালের সঙ্গে দুই তরুনীর কারো প্রেমের সম্পর্ক ছিল কি-না জানতে চাইলে আব্দুর রউফ জানান, না এ ধরনের সম্পর্কের কথা তিনি বলতে পারেন না। এ ছাড়া বেলালকে তিনি চিনতেনও না।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.