ফেসবুকে The End লিখে এইচএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা


বাংলাদেশ,
পাবনার চাটমোহরে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে The End লিখে ফাঁস দিয়ে শুভ দাস (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌর শহরের নতুনবাজার কালীসাগরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শুভ দাস ওই এলাকার সুব্রত দাসের ছেলে। চলতি বছর চাটমোহর সরকারি কলেজ থেকে শুভর এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল।

মঙ্গলবার বিকালে শুভর বাবা নিজ কর্মস্থলে এবং মা শুভ্রা দাস বাড়ির পাশে বাজারে কেনাকাটা করতে যান। সন্ধ্যার পর শুভর মোবাইলে তার বাবা কল করে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িতে এসে দেখেন বাইরের গেট বন্ধ। এর মধ্যে বাজার থেকে ফেরেন শুভর মা।

ডাকাডাকি করে ছেলের সাড়াশব্দ না পেয়ে মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন বাবা সুব্রত দাস। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে ছেলেকে মাফলার পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভকে মৃত ঘোষণা করেন। 

সরেজমিন গিয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জনৈক এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল শুভর। সম্প্রতি তাদের দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এ নিয়ে গত ২৭ নভেম্বর (শনিবার) ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় শুভ। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হয়।

এদিকে মৃত্যুর ঘণ্টাখানেক আগে শুভ তার নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে বেশ কয়েকটি ছবি ও হিন্দি সিনেমার ভিডিও (আংশিক) পোস্ট দেন। এর মধ্যে সর্বশেষ সে তার প্রোফাইল পিকচারটি পরিবর্তন করে। শুভ সেখানে লেখেন- The End.

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহাকারী পুলিশ সুপার (চাটমোহর সাকের্ল) সজীব শাহরীন বলেন, 'হাসপাতাল থেকে শুভ নামের ওই তরুণের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি বিষয়টি প্রেমঘটিত এবং মৃত্যুর আগে সে ফেসবুকে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাসও দেয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে.'

এদিকে, উত্তরায় ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আরেক স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা!

রাজধানীর উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর একটি বাসায় ফারহান ইসলাম ফুয়াদ (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় পুরাতন যখমের চিহ্ন রয়েছে।

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা জানায়, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ৯ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়িতে মা শামীম আরা নীপার সঙ্গে থাকতো ফুয়াদ। তার বাবা শওকত ইসলাম ফাহিম তিন মাস আগে মারা গেছেন। উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলের ইংরেজি বিভাগের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। দুই ভাইবোনের মধ্যে ছোট ফুয়াদ।

ফুয়াদের মা নীপা জানান, ফুয়াদের বাবা শওকত জীবিত থাকা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্য সম্পর্ক ভালো ছিল না। এটি নিয়ে তাদরের ছেলে ফুয়াদও মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ে। সে বিভিন্ন সময় নিজেই তার হাত-পা ব্লেড দিয়ে কাটাকাটি করতো। অনলাইনে বন্ধুদের সঙ্গেও হতাশা প্রকাশ করতো। সবশেষ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সে ওয়াশরুমে যাবে বলে তার রুম থেকে বের হয়। কিছুক্ষণ পরে মা শুনতে পান ভবনের ৭তলা থেকে লাফিয়ে নিচে পড়েছে সে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাংলাদেশ মেডিক্যাল নিয়ে যান। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যার নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.