কখন পাবেন সর্বোচ্চ অনুভূতি ? জেনে নিন


শারীরিক সম্পর্কে সন্তুষ্টি পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেখা গেছে, মিলনে আত্মতৃপ্তি না পেলে সম্পর্কে ফাটল পর্যন্ত দেখা দেয়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, শারীরিক সম্পর্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সময় আছে যা সর্বোচ্চ অনুভূতি দিয়ে থাকে। সম্প্রতি হরমোন বিশেষজ্ঞ আলিসা ভিট্টি তার বইয়ে মিলনের সঠিক সময় হিসেবে ‘ভরদুপুরকে’ উল্লেখ করেছেন।

হরমোন বিশেষজ্ঞ আলিসা ভিট্টি বলেন, ‘সম্পর্কের প্রতি আমাদের অনুভূতির মূলেই রয়েছে হরমোন।’ ‘ওমেনকোড’ নামে তার এক বইয়ে উল্লেখ করেন, মিলন উপভোগের সবচেয়ে সঠিক সময় হচ্ছে ভরদুপুর ৩.০০ টায়। কেননা সে সময় পুরুষের শরীরে এস্ট্রোজেন নামক একটি হরমোন বের হয়, যা মিলনের সময় তাদের আবেগ ও ক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেকে মনে করেন, পুরুষদের জন্য মিলনের সবচেয়ে উপভোগ্য সময় হচ্ছে সকালবেলা। বিষয়টি যদিও সত্য। কেননা ঘুমন্ত অবস্থায় পুরুষদের শরীরে যৌন আবেগ ও কর্মক্ষমতাসম্পন্ন হরমোন, টেস্টোস্টেরনও নিঃসৃত হয়।

আলিসা আরও জানান, শেষ বিকেলের শারীরিক সম্পর্ক পুরুষের জন্য খুবই ভালো একটি সময়। কারণ সে সময় তাদের টেস্টোস্টেরন হরমোন কম নিঃসৃত হয়। অন্যদিকে এস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে দুজনই যদি কর্মজীবী হয়ে থাকেন তবে ছুটির দিন বাদে এ সময় মিলন সম্ভব নয়।

আলিসা জানান, ঋতুস্রাবের পর করা শারীরিক সম্পর্ক নারীরা সব থেকে বেশি উপভোগ করেন। কেননা ঋতুস্রাবের পর নারীদেহে এস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা শারীরিক সম্পর্কের প্রতি কয়েকগুণ আসক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে শারীরিক সম্পর্কের সম্ভাব্য সন্তুষ্টি পাওয়া সম্ভব টানা ৭ দিনের ঋতুস্রাবের পর।


শারীরিক সম্পর্কের সময় পুরুষের কাছে যে কথাটি শুনতে চান নারীরা

শারীরিক সম্পর্ক দু'টি মানুষের রসায়নকে নিবিড় করে। পরস্পরকে আরও কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে। তবে সবসময় মিলনের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র পরস্পরের শারীরিক চাহিদা পূরণ নয়, যৌনতৃপ্তিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অনেক সময় দেখা যায়, দুজন মানুষ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছেন ঠিকই, অথচ অধরা থাকছে যৌনতৃপ্তি। বেশ কিছু দিন এ রকম চলতে থাকলে সম্পর্কে একঘেয়েমি আসতে পারে। মধুর সম্পর্ক ধীরে ধীরে পরিণত হতে পারে তিক্ততায়। এমনকি একপর্যায়ে সম্পর্কে ফাটলও ধরতে পারে। তাই সম্পর্কের যত্নে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন যৌনতৃপ্তিও।

মিলনের সময় নারীরা পুরুষ সঙ্গীর কাছ থেকে কী শুনতে চান এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপম্যান ইউনিভার্সিটি এক সমীক্ষা চালিয়েছিল। সমীক্ষায় উঠে এসেছে, মিলনের সময় নারীরা তাদের পুরুষ সঙ্গীর কাছ থেকে ‘আই লাভ ইউ’ বাক্যটি শুনতে চান। শারীরিক ঘনিষ্ঠতম মুহূর্তে প্রিয়জনের মুখ থেকে ভালোবাসার কথা শুধু শরীর নয়, মনকেও তৃপ্ত করে। 


শারীরিক মিলনে যেসব ব্যথা কমে

মাথাব্যথা কিংবা শরীরের অন্যত্র ব্যথা হলে অনেকেই না বুঝে পেইনকিলার সেবন করে থাকেন। এতে অহেতুক ওষুধ নেওয়াতে শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শরীরের ব্যথা কমাতে বরং যৌন সম্পর্কই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ লরেন স্ট্রেইশার।

সম্প্রতি এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্ট্রেইশার জানান, অনেক সময় দৈহিক মিলনের ফলে মাথাব্যথা কমে যেতে পারে। এমনকি জয়েন্টের ব্যথাও কমে যায়।

তার মতে, মিলনের সময় পুরুষ-নারী উভয়ের শরীর থেকে এন্ড্রোফিন নিঃসৃত হয়। শরীর থেকে বেশি মাত্রায় এন্ড্রোফিন বেরিয়ে যাওয়ার কারণেই, দ্রুত মাথাব্যথা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। শুধু মাথাই নয় শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যথাও যৌন মিলনে দূর হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, শরীরে বেশ কিছুদিন ধরে কোনো ব্যথা দেখা দিলে পেইন কিলার না খেয়ে নিয়মিত যৌন মিলনের অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়।

লরেনের বলেন, ‘যৌনতার উত্তেজনায়, সাময়িক হলেও মনোযোগ বিক্ষিপ্ত হয়। এই কারণে, ব্যথার বোধ খানিকটা দূর হয়।’

তবে প্রচণ্ড মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে এই মতবাদ কার্যকরী নয় বলে আরও জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।


সকালে শারীরিক সম্পর্কে যেসব উপকার

সকালে উঠে, খালি পেটে যদি কেউ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে পারেন, তাহলে তার নানারকম শারীরিক উন্নতি হওয়া সম্ভব। আপনি যদি বিবাহিত হন আর খুব সকালে ওঠেন, তাহলে আপনার শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে শারীরিক সম্পর্ক।

লাইফস্টাইল বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই এক প্রতিবেদনে সকালে শারীরিক সম্পর্কের কিছু উপকারিতা তুলে ধরেছে। জেনে নিন কী সেগুলো-

* নিয়মিত ভোরবেলা খালি পেটে শারীরিক মিলনে লিপ্ত হলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে।

* ভোরবেলায় শারীরিক মিলনে বাড়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

* যৌন মিলনের ফলে ক্যালরি বার্ন হয়, কিছুটা ব্যায়ামের কাজ করে এটি। ফলে সকাল সকাল যৌন মিলনে হলে মেদ ঝরে। শরীর ফিট থাকে৷

* চিন্তা এবং তার জন্য উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। শারীরিক মিলন তাদের শান্তি দেয়। এছাড়া শরীরে অ্যান্টিবডির পরিমাণও এতে বৃদ্ধি পায়।

* একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে তিনবার যৌন সঙ্গম করেন, তাদের হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় আর মস্তিস্কে রক্ত সরবারহ বেড়ে যায়।

* এছাড়া, সঙ্গীর সঙ্গে এই আদর ভালোবাসায় দিন শুরু হলে মানসিকভাবেও অনেকটা সুস্থ থাকবেন আপনি। কারণ, এতে মনের সুখ হয়, আপনার দিনটাও ভালো যাবে।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.