জীবন দিয়ে দায়িত্ব পালন করলেন ফায়ারের ৯ কর্মী


 ডিপোতে বিস্ফোরণের পর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে জীবন হারাতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের। গতকাল রবিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আরও অনেকে।


নিহতদের মধ্যে আট জনকে শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন- কুমিরা ফায়ার স্টেশনের কর্মী মো. রানা মিয়া, মনিরুজ্জামান, আলাউদ্দিন, শাকিল তরফদার, মিঠু দেওয়ান, সীতাকু- ফায়ার স্টেশনের সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, রমজানুল ইসলাম ও নিপন চাকমা। নিখোঁজ চারজন হলেন- কুমিরা ফায়ার স্টেশনের ইমরান হোসেন মজুমদার, শফিউল ইসলাম, সীতাকু- ফায়ার স্টেশনের ফরিদুজ্জামান ও মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম।


গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কথা হয় নিহত মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বড় মামা মীর হোসেনের সঙ্গে। আমাদের সময়কে তিনি বলেন, সকালে চমেক হাসপাতালে এসে তিনি ভাগ্নের মরদেহ শনাক্ত করেন। মনিরুজ্জামান


আট বছর আগে ফায়ার সার্ভিসে কর্মজীবন শুরু করেন। গেল দুই মাস আগে তিনি কুমিরা ফায়ার স্টেশনে যোগদান করেন।


তিনি বলেন, দুদিন আগে কুমিরায় গিয়ে ভাগ্নের সঙ্গে সারাদিন ঘোরাঘুরি করেছেন। গতকাল (রবিবার) সকালে ফোন করে তাকে পাচ্ছিলেন না। তাই হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। তার পুরো শরীর পুড়ে গেলেও মুখের কিছু অংশ অক্ষত ছিল। ফলে চিনতে সমস্যা হয়নি।


কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে যান কুমিরা ফায়ার স্টেশনের কর্মী রানা মিয়া। কিন্তু ভয়াবহ বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। ১৬ ঘণ্টা পর তার লাশের খোঁজ পান স্বজনরা। রানা মিয়ার দুলাভাই মো. রাসেল শেখ বলেন, প্রথমে সীতাকু-ে বিএম ডিপোতে খোঁজ করি। সেখানে না পেয়ে চমেক হাসপাতালে আসি। হাসপাতালে রাখা লাশগুলো থেকে রানা মিয়ার লাশ শনাক্ত করি। মুখের দাড়ি, পরনে স্থানীয় একটি ক্লাবের গেঞ্জি দেখে রানাকে শনাক্ত করি।


নিহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মো. আলাউদ্দিন (৩৫) গত শনিবার সকালে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বানসা গ্রামে। তাজউদ্দিন তাহিম নামে তার ৬ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে।


নিহত আলাউদ্দিনের বড় ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ১৫ বছর আগে ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করেন তিনি। প্রথমে তার কর্মস্থল ছিল ঢাকা। পরে ফেনী, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী, কুমিল্লা এবং সর্বশেষ চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। আলাউদ্দিন গত সপ্তাহের প্রথম দিকে ছুটিতে বাড়ি আসেন। ছুটি শেষে কাজে যোগ দেন।


চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের ১৫ কর্মীকে বর্তমানে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিহত ও আহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদারকে ফোন করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.